ভোলা প্রতিনিধি
ভোলার সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের এক অসহায় ব্যক্তির জমি ও বসতঘর জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতার যোগসাজশে এ দখলচেষ্টা চলছে, যা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সোমবার (৪ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাঘমারা এলাকায় সুধাংশ চন্দ্র দাস প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে জেবল হকের কাছ থেকে ২৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমিটির দাগ নম্বর ৯৪৩/১২৮০ এবং খতিয়ান নম্বর ৫৬১। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমিটি ভোগদখলে রেখে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন।
ভুক্তভোগী সুধাংশ চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, “আমি একজন দরিদ্র সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্য। বহু বছর ধরে এই জমিতে বসবাস করছি। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমার জমি দখলের চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন কৃষকদলের সেক্রেটারি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু এবং কৃষকদল নেতা বিল্লালের যোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা সোবহান রাড়ির নেতৃত্বে হারুন রাড়ি, মালেক সোহেল ও মনিরসহ কয়েকজন ব্যক্তি গত ৮-৯ দিন ধরে তার জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার ১৫-২০ জনের একটি দল সোবহান রাড়ির নেতৃত্বে এসে তার বসতঘরে প্রবেশ করে এবং জমিতে কলাগাছ রোপণ শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তা বন্ধ করে দেয় এবং উভয় পক্ষকে সমাধানের নির্দেশ দেয়। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর রাতের আঁধারে পুনরায় ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে দখল নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সুধাংশ চন্দ্র দাস ওই জমির ভোগদখলে রয়েছেন। হঠাৎ করে একটি পক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোবহান রাড়ি দাবি করেন, তিনি সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে একাধিক আদালতের রায় পেয়েছেন। তবে তিনি যে কাগজপত্র দেখান, তাতে বিরোধপূর্ণ দাগ নম্বরের জমিতে তার মালিকানার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে তিনি বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির কথা বলে এড়িয়ে যান।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে বিরোধ মীমাংসার নির্দেশ দিয়েছে। যদি পুনরায় দখলচেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে ভুক্তভোগীকে আদালতের আশ্রয় নিতে হবে। আদালতের নির্দেশনা পেলে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করে দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।