আরিফুল ইসলাম
ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদুরচর এলাকায় জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একই বাড়ির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ, হামলা ও মামলা চলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সালিশ বৈঠকের নামে স্ট্যাম্পে আদালতের চলমান মামলা নিষ্পত্তির আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে সালিশের সভাপতির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদুরচর এলাকার সুলতান হাওলাদার বাড়ির আব্দুল মালেক গংদের সাথে একই বাড়ির আবু ও ইউনুস গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার হামলা ও মামলার ঘটনাও ঘটেছে।
এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গেলে তারা সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। এ সময় সালিশ পরিচালনার জন্য স্ট্যাম্পে উভয় পক্ষের সালিশদারদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ ছিল আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করার বিষয়টি।
পরে ওই সালিশ ও মীমাংসা মজলিসের সভাপতি করা হয় বাপ্তা চরপটকা এলাকার হারুন মেম্বারকে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এক পক্ষ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সালিশ কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই একই স্ট্যাম্পে আদালতের চলমান মামলার নিষ্পত্তি চেয়ে আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে অন্যান্য সালিশদারদের সাথে কথা বললে তারা জানান, জমি সংক্রান্ত ওই বিরোধ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সালিশ বা মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি। তাই মামলার নিষ্পত্তি চাওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। তাদের দাবি, তারা এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেননি এবং যদি কেউ করে থাকে তাহলে তা সম্পূর্ণ অন্যায়।
সালিশদার আলাউদ্দিন মুন্সী বলেন, “আমরা বসে দুই পক্ষের কাগজপত্র দেখার জন্য সময় নিয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচন সামনে থাকায় ব্যস্ততার কারণে এখনো বসা সম্ভব হয়নি। ফলে জমির বিষয়টি এখনো মীমাংসা করা যায়নি।”
স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা আদালত থেকে সময় নেওয়ার জন্য স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তির জন্য কোনো স্বাক্ষর করিনি। কে বা কারা মামলা নিষ্পত্তির আবেদন করেছে তা আমরা জানি না। যদি কেউ করে থাকে, তাহলে সে অন্যায় করেছে। এ বিষয়ে সভাপতি ভালো বলতে পারবেন।”
সালিশের সভাপতি হারুন মেম্বার এর সাথে কথা বললে তিনি উক্ত বিষয়ে কোন ধরনের উত্তর দিতে পারেননি।
এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।