বাবুল রহমান রবিন
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক। এর আগে সোমবার রাতেই অভিযোগটি দায়ের করেন রাজাহার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মইনুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের বারেক হাজীর সঙ্গে তার ওয়ারিশদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ বিষয়ে আদালতেও মামলা চলমান রয়েছে। বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেন।
এরই মধ্যে সোমবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নের বানেশ্বর বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে বারেক মন্ডল তার জামাইসহ কয়েকজনকে নিয়ে যান। পরে তাদের প্রতিপক্ষরাও সেখানে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে একই বিষয়কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় রাজাহার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম মইনুল ইসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৯ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একদল লোক বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে কয়েকজনকে আহত করে এবং কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিও ভাঙচুর ও পদদলিত করে।
অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— লেবু মিয়া (৪২), বেলাল মিয়া (৫০), আব্দুল লতিফ (৫৫), রুবেল মিয়া (৩৫), ফারুক (৩০), রানা মিয়া (৩২), তামিম মিয়া (২৩), মোজাম্মেল হক খোকা (৫৯) ও হাসিব (২৩)। অভিযোগে তাদের আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে বৈরাগীরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অবগত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বৈরাগীরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লাইছুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে লেবু মিয়া যুবলীগের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে, অন্যরা বিএনপির কর্মী-সমর্থক।