• মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • |
  • #
  • |
ব্রেকিং নিউজ
বোরহানউদ্দিনে ৮ লক্ষ টাকার অবৈধ সিগারেট জব্দ করল কোস্ট গার্ড পার্থ তথ্যমন্ত্রী হওয়ায় ভোলায় বিজেপি নেতাকর্মীদের আনন্দ, মিষ্টি বিতরণ জামায়াতের গণমিছিল ও পথসভা ভারতের সাথে চুক্তি করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি ভোলায় সন্ত্রাসী বেলায়েত বাহিনীর হামলা ও ২০ লাখ টাকা ছিনতাই: গুম ও হত্যার চেষ্টা চরসামাইয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ীর ঘরে চুরি, দেড় লাখ টাকা নিয়ে গেছে চোর বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে ভোলায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ভোলায় ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে ফের ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও বিচারের দাবি বিশ্বনাথে প্রবাসী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের কমিটি গঠন। তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিসরের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: যৌথ মিডিয়া ফোরাম গঠন ও অপতথ্য মোকাবিলায় জোর

রিপোটার নাম / ২৯৫২৮ সময় দেখুন
আপডেট : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬


ভোলা সদর উপজেলার চর ইলিশা জয়নাল আবদীন মাস্টার বাড়ির জামে মসজিদের সরকারি ইমাম সম্মানী ভাতা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মাওলানা মো. আবুল কালাম অভিযোগ করেছেন, সরকারি বরাদ্দের টাকা মসজিদ ফান্ডে জমা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে মসজিদ থেকে অপসারণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
মাওলানা মো. আবুল কালাম জানান, ১৯৯৯ সালে নদীভাঙনকবলিত এলাকায় স্থানীয় জমির মালিকের মৌখিক অনুমতি নিয়ে ছোট পরিসরে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। একই সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্র চালু করে মাত্র ৭০০ টাকা সম্মানীর বিনিময়ে দায়িত্ব পালন করতেন। পরবর্তী সময়ে ২০০০ সালে জমিদাতার সহযোগিতায় মসজিদের জমি রেজিস্ট্রি করে মসজিদটি সম্প্রসারণ করা হয় এবং জুমার নামাজ চালু করা হয়।
তার দাবি, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মসজিদ কমিটির সহযোগিতায় মসজিদের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় পাকা ভবন নির্মাণের পাশাপাশি জেলা পরিষদের সহযোগিতায় ঘাটলা, গভীর নলকূপ ও ওজুখানা নির্মাণ এবং কবরস্থানের জন্য জমি কেনাসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ করা হয়েছে।
মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম আরও জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার সহযোগিতার জন্য কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে একজন মোয়াজ্জিন কাম পাঞ্জেগানা ইমাম নিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সম্মানী বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ইমামের জন্য ৫ হাজার, মোয়াজ্জিনের জন্য ৩ হাজার এবং খাদেমের জন্য ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মাওলানা আবুল কালামের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তালিকায় তাকে ওই মসজিদের ইমাম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তার ও মোয়াজ্জিনের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়া এবং সোনালী ব্যাংক ভোলা শাখায় নিজ নামে হিসাব খোলা হয়। পরবর্তীতে সরকারি পাইলট প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা তাদের মোবাইল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, সরকারি সম্মানী ভাতা পাওয়ার পর মসজিদ পরিচালনা কমিটি তার পূর্বের ১ হাজার টাকা সম্মানী বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি সরকারি ইমাম সম্মানীর ৫ হাজার টাকা মসজিদ ফান্ডে জমা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তার স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক নাবালক ছেলেকে নিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজের চিকিৎসা ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিষ্ঠাতা ইমাম। তার অভিযোগ, বর্তমান মসজিদ পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে আয়-ব্যয়ের যথাযথ ভাউচার সংরক্ষণ ও হিসাব উপস্থাপনে অনিয়ম রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কমিটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাওলানা আবুল কালাম আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট নতুন মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে তাকে নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাহী সদস্য হিসেবে রাখা হয়নি। এর পর থেকেই সরকারি সম্মানী ভাতা ও মসজিদের দায়িত্ব নিয়ে তার সঙ্গে কমিটির বিরোধ আরও বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিজেকে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম দাবি করে মাওলানা আবুল কালাম সরকারি বরাদ্দের সম্মানী যথাযথ ব্যক্তিকে প্রদান, মসজিদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের হুমকি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্যও প্রকাশ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর