নিজস্ব প্রতিবেদন
ভোলা সদর উপজেলার চরসোমাইয়া ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছেন—এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নাসরিন বেগম জানান, গত ৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে চরসোমাইয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে তার শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তার অভিযোগ, একই এলাকার রাসেল (৩০), পিতা মোহাম্মদ আলী, গভীর রাতে ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মুখ চেপে ধরে এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার চিৎকার শুনে শ্বশুর এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, ঘটনার পর তিনি থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে অভিযুক্ত আবারও তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, অভিযুক্ত প্রকাশ্যে পুনরায় ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর শ্বশুর আব্দুল ওযুদ বলেন, ঘটনার রাতে চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বের হয়ে তিনি একজনকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে পুত্রবধূর কান্নার শব্দ শুনে বিষয়টি জানতে পারেন। তার অভিযোগ, পুত্রবধূ তাকে জানান যে রাসেল জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীর মা সালমাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, মেয়ের স্বামী প্রবাসে থাকায় সে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে। ঘটনার পর থেকে পরিবারটি আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত রাসেলের বিরুদ্ধে এলাকায় নারীদের উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ আগে থেকেও রয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা ভেলুমিয়ার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্ররের ইনচার পল্লব সাথে কথা বললে তিনি বলেন ঘটনাটি একই এলাকার একই বাড়ির পাশাপাথ থেকে ঘরের রাসেলের সাথে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে যেহেতু এগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করার বিষয় তাহলে পরীক্ষার কাগজপত্র হাতে এলে আমি পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট দিতে পারব। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।